বরিশাল কিসের জন্য বিখ্যাত | বরিশাল বিখ্যাত জায়গাগুলো কি কি

বরিশাল কিসের জন্য বিখ্যাত:- আমাদের বাংলাদেশ সুন্দর কিংবদন্তি দেশ ও ঐতিহ্যের বললেই চলে। আমাদের দেশ ন্যাচারালি ভাবে এত সুন্দর যে যার ব্যাখ্যা বলা সম্ভব নয়। প্রায় আমাদের দেশের মধ্যে যে সমস্ত জেলা রয়েছে সবগুলোর সংস্কৃতি এক এক রকম। এর ঐ কারণে আমাদের দেশকে আরো দিয়েছে উন্নত এবং উজ্জ্বল একটি দেশ।

বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলার বিভিন্ন বিষয়ের ক্ষেত্রে বিখ্যাত যেমন কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত নিয়ে তেমনি অনেক জেলা খাবারদাবার পোশাক আশাক ইত্যাদি নিয়েই বিখ্যাত। আবার এমন অনেক জেলা আছে যেগুলো কিনা মিষ্টি জিলাপি কিংবা মিষ্টি জাতীয় খাবার নিয়েই বিখ্যাত।

বরিশাল কিসের জন্য বিখ্যাত | বরিশাল বিখ্যাত জায়গাগুলো কি কি
What is barisal famous for

অনলাইনে ট্রেনের টিকেট কাটার সময় সম্পর্কে জানার জন্য অবশ্যই আমার ওয়েবসাইটের অন্য একটি আর্টিকেল পড়ে আসতে পারেন যেটাতে কিনা আমি এ বিষয় সম্পর্কে শেয়ার করেছি।

আমাদের দেশ কিন্তু একটি রয়েছে আরটি বিভাগ যেখানে কিনা ৬৪ টি জেলা অবস্থান করে আছে। প্রায় প্রত্যেকটা জেলা এক এক সংস্কৃতির জন্য বিখ্যাত, কেউবা খাবার-দাবার নিয়ে আবার কেউবা পোশাক-আশাক নিয়ে।

ঠিক তারই ভিত্তিতে আজকের এই ছোট্ট আর্টিকেলে বাংলাদেশের মাত্র একটা জেলা কিসের জন্য বিখ্যাত সেই বিষয়টা নিয়ে ডিসকাশন করার চেষ্টা করবো। সুতরাং আজকের এই ছোট্ট একটি বন্ধুতে এখন আমি আপনাদের সাথে শেয়ার করতে যাচ্ছি আমাদের দেশের খুব সুন্দর একটি জেলা বরিশাল কিসের জন্য বিখ্যাত এই বিষয়টি নিয়ে।

এক কথায় বলতে গেলে বরিশাল আমড়ার জন্য বিখ্যাত। তাছাড়া একটা ওয়েবসাইটের তথ্য মতে বাংলাদেশের মধ্যে এমন একটি যারা রয়েছে যেটা কিনা ভেনিস নামেও পরিচিত আর সেটা হচ্ছে বরিশাল। অর্থাৎ বাংলাদেশের কেউবা বরিশাল কে আবার ভেনিস নামেও ডেকে থাকে।

বরিশালের ১০ টি বিখ্যাত এবং দর্শনীয় স্থান

আপনি কি বরিশালে ভ্রমণ করতে চাচ্ছেন এই আনন্দম এবং সুন্দর প্রকৃতি জায়গায়। তবে তার আগে কয়েকটি বিষয় জানা দরকার তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে আমি কোথায় কোথায় যাব কোন কোন জায়গা রয়েছে সেখানে দেখার জন্য।

অর্থাৎ আপনাকে জানতে হবে বরিশালের বিখ্যাত জায়গা কিংবা বরিশাল কিসের জন্য বিখ্যাত এইসব বিষয়গুলো। তো এখন আমি আপনাদের সাথে বরিশাল থেকে মাত্র কয়েকটি বিষয় শেয়ার করতে যাচ্ছি।

যদিও বা অনেকগুলো জায়গা রয়েছে যাওয়ার জন্য তবে এখানে কয়েকটা বিখ্যাত জায়গা আপনাদের সাথে শেয়ার করেছি। সংক্ষিপ্ত জায়গায় নিচে দিয়ে দেওয়া হলো এবং এর বিস্তারিত জানার জন্য অবশ্যই আর্টিকেল শেষ পর্যন্ত পড়তে হবে।

See also  রবি মিনিট চেক‌ | Robi minute check | রবি মিনিট অফার
  • এবাদুল্লাহ মসজিদের দৃশ্য
  • গুটিয়া মসজিদের অপরূপ দৃশ্য
  • বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় সাজসজ্জা
  • শাপলা বিলের প্রাকৃতিক
  • দুর্গাসাগর দিঘির অপরূপ সৌন্দর্য
  • গজনী দিঘি
  • মাধবপাসা জমিদার বাড়ির পুরনো স্মৃতি
  • যদিও বা বর্তমান সময়ে এই মসজিদের প্রসিদ্ধ নাম এবাদুল্লাহ মসজিদ হলেও এর মূল নাম হচ্ছে জামে এবাদুল্লাহ মসজিদ। আজ থেকে প্রায় একশত বছর আগে প্রায় হিজরী ১২৬২ এর দিকে সেই চকবাজার এলাকার খুব কম সংখ্যক মুসলমান ব্যবসায়ের মধ্যে জৈনক সাবান ব্যবসায়ী এই মসজিদটি প্রতিষ্ঠা করেন।

    আপনি যদি কোন সময় সেই মসজিদটা দেখতে যান দেখতে পাবেন ঠিক সেই স্থানে যে স্থানে জৈন ব্যক্তিটি ব্যবসা করেছিলেন এবং নিজ বাসস্থান হিসেবে থাকতেন। এক ওয়েবসাইটের তথ্য মতে সেই সময়ই মাত্র তিনজন মুসলিম ব্যবসায়ী ছিল সেখানে। ‌

    তারা তিন ব্যবসায়ী একই সাথে বসবাস করত এবং সেই সাথে তাদের বাসস্থানের সংলগ্ন এলাকার নির্দিষ্ট একটা জায়গাতে নামাজ আদায় করত। দেখতে দেখতে আরও লোকসংখক তাদের সাথে নামাজ আদায় করা আরম্ভ করে দেয় যার কারণে এটি একটি নামাজের স্থান হিসেবে প্রসিদ্ধতা লাভ করে।

    বাংলাদেশের মধ্যে অন্যতম আরেকটা দর্শনীয় জায়গা হচ্ছে সাজেক ভ্যালি। আর সাজেক ভ্যালি কোথায় অবস্থিত এই বিষয়টা আপনার জেনে নেওয়া ভালো।

    ঠিক কারো ভিত্তিতে সেই জায়গাটির রক্ষণাবেক্ষণ করার জন্য একজন সাবান ব্যবসার কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয় কিংবা দায়িত্ব নেন। সেই ব্যক্তিটির নাম ছিল এবাদুল্লাহ ঠিক তারই ভিত্তিতে এই মসজিদটিকে এবাদুল্লাহ মসজিদ হিসেবে ডাকা হয় কিংবা পরিচিতি লাভ করে।

    বরিশালের গুটিয়া মসজিদ

    বরিশাল বিভাগ এর উজিরপুর থানায় গুঠিয়া গ্রামে অবস্থিত একটি মসজিদ রয়েছে তার নাম হচ্ছে গুটিয়া মসজিদ, যেটা কিনা এশিয়া মহাদেশের অন্যতম একটা বড় মসজিদ। এই মসজিদটি বরিশাল শহরের ১১ কিলোমিটার দূরে 14 একর জমি নিয়ে গড়ে উঠেছে এই বৃহত্তম মসজিদ।

    বর্তমান সময়ে এই মসজিদটি যদিও বা গুটিয়া গ্রামে অবস্থিত হওয়ার কারণে গুটিয়া মসজিদ নামে প্রসিদ্ধতা লাভ করেছে আসলে মূল এর নাম হচ্ছে বাইতুল আমান। ২০০৩ সালের ১৬ই ডিসেম্বর গুঠিয়া ইউনিয়নের এস. সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টু গুঠিয়া বাইতুল আমান জামে মসজিদ এবং ঈদগা কমপ্লেক্সের কাজ শুরু করেন বলে জানা গিয়েছে এক ওয়েবসাইটের তথ্য মতে। ২০০৬ সালের দিকে ঘটিয়া জামে মসজিদ কিংবা বায়তুল আমান জামে মসজিদ এবং ঈদগাহ কমপ্লেক্সের কাজ কমপ্লিট করা হয়।

    See also  কি কি সমস্যা থাকলে সেনাবাহিনীর চাকরি হয় না

    বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়

    আজ থেকে প্রায় এগারো বছর আগে ২০১১ সালের বা এসে ফেব্রুয়ারি বরিশালের বাতিঘর অর্থাৎ বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছিল। এক বছর পরেই এখানে নিয়মিত ক্লাস অনুষ্ঠিত হয় অর্থাৎ পরের বছরই। শুরুর দিকে চারটি অনুষদ ও ছয়টি বিভাগ এবং সাথে ৪০০ শিক্ষার্থী নিয়ে শুরু হয় নিয়মিত ক্লাস এই প্রতিষ্ঠানটিতে।

    তখনকার সময়ে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী ক্যাম্পাস ছিল জিলা স্কুল প্রাঙ্গণে। এখন আবার জিলা স্কুল প্রাণ বন্ধু থেকে অস্থায়ী ক্যাম্পার ছেড়ে নিজ নিবাসে চলে এসেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গনে। এখন নিয়মিত এখানে ই প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম চালিত হয় এবং দিন দিন উন্নতর দিকে যাচ্ছে।

    দিন যতই যাচ্ছে বিদ্যালয়ের উন্নতির পাশাপাশি শিক্ষার্থী ও বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রথমদিকে ৪টি অনুষদ ও ছয়টি বিভাগ থাকলেও বর্তমান সময়ে এটি পেরিয়ে ছয়টি চারটি অনুষদের আন্ডারে ২২টি বিভাগ। বর্তমান সময়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ৬০০০ এর অধিক তাদেরকে পাঠদান করতেছে নিয়মিত ১৫১ জন শিক্ষক এবং কর্মকর্তা রয়েছে ৫৫ জন, সাথে কর্মচারী রয়েছে ১৬৫ জন।

    বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে মোট তিনটি হল দুটি ছাত্রদের জন্য আর একটি ছাত্রীদের জন্য। তাছাড়া শিক্ষক শিক্ষার্থী কর্মকর্তা কিংবা কর্মচারী প্রত্যেকের জন্য রয়েছে বিশেষ যাতায়াতের সুবিধা, কেউবা বাসে করে, মিনি বাস কিংবা মাইক্রোবাসে করে।

    আপনি যদি মালয়েশিয়া কোন একটা কাজের জন্য যেতে চান তাহলে অবশ্যই আপনাকে সেই কাজ সম্পর্কে জানতে হবে। তবে আপনি এটাও জেনে নেওয়া ভালো যে মালয়েশিয়া কি কি কাজ পাওয়া যায়।

    শাপলা বিলের প্রাকৃতিক

    আপনি কি ফুলের রাজ্য দেখতেছেন যদি দেখতে চান তাহলে চলে যান বরিশাল উপজেলা থেকে 60 কিলোমিটার দূরে। যখন আপনি বরিশাল উপজেলা থেকে ৬০ কিলোমিটার অতিক্রম করবেন তখনই এই শাপলা রাজ্যটা দেখতে পাবেন।

    এই বিলের যতই ভিতরে যাবেন আপনি সারি সারিভাবে এই শাপলা দেখতে পারবেন এ জেন এক শাপলা রাজ্য। এটি বরিশালের উজিরপুর উপজেলার শাপলা গ্রামে অবস্থিত একটি জায়গা। যেখানে আপনি অসংখ্য অসংখ্য রাজ্যে দেখতে পাবেন যেগুলো দেখলে আপনার মন ভরে যাবে এবং অনেক মনোমুগ্ধকর।

    হাজারো বিলের আগাছা এবং হাজারো শাপলার মনমুগ্ধকর দৃশ্য পথচারীদের দেই এক আনন্দতম প্রকৃতি। হ্যাঁ আজকে আমি বলতে চাচ্ছি বরিশালে অবস্থিত শাপলা গ্রাম কিংবা শাপলা রাজ্যের কথা।

    বরিশাল জেলার উজিরপুর উপজেলার মধ্যে সাতলা নামে একটি গ্রাম রয়েছে যেটা অনেকের কাছেই শাপলা গ্রাম নামেও পরিচিত। তবে এখানে নির্দিষ্টভাবে কেউ বলতে পারে না যে এই বিলগুলোতে শাপলা ফুল কবে থেকে ফোটা শুরু হয়েছে।

    See also  স্কয়ার কোম্পানিতে চাকরির নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি | চলমান বেসরকারি চাকরির খবর

    আরো গভীরভাবে জানার জন্য যখন বৃদ্ধ লোকের কাছে জিজ্ঞেস করা হয় তারা বলে তাকে যে আমরা জন্মের পর থেকেই এসব লোকগুলো দেখতেছি। এই গ্রামের ৮০% শাপলা শেষ করে তাকে হয়তো এই কারণেই এটাকে শাপলা গ্রাম বলে থাকে। এই বিলগুলোতে মূলত তিন ধরনের শাপলা ফুল বেশি দেখা যায় লাল সাদা এবং বেগুনি, তবে লাল শাপলা বেশি দেখা যায় অন্যগুলোর তুলনায়

    দুর্গাসাগর দিঘি | বরিশাল বিখ্যাত জায়গা

    দুর্গাসাগর হচ্ছে বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত বরিশালের একটি বৃহৎ দিঘি। বরিশালের শহর থেকে প্রায় 12 কিলোমিটার উত্তরে এই দিঘিটি মাদবপাসা নামে একটি গ্রামে অবস্থানরত। এই দিঘির জল শুধুমাত্র যে ভূমির উপর বিদ্যমান রয়েছে তার আকার প্রায় ২৭ একর। দিঘির পার্শ্ববর্তী পাড় এবং জমি মিলে এর আয়তন প্রায় 45.42 একর।

    আপনি যদি কোন একটা দেশে ভ্রমন করতে চান তাহলে অবশ্যই আপনাকে পাসপোর্ট করা লাগবে আর পাসপোর্ট করার নিয়ম সম্পর্কে জানার জন্য আমার ওয়েবসাইটে দেওয়া আর্টিকেল পড়ে আসতে পারেন।

    গজনী দিঘি | বরিশাল কিসের জন্য বিখ্যাত

    প্রকৃতপক্ষে দীঘিগুলো দেখতে অনেক সুন্দর লাগে যখন সেই দীঘিটা হয় অনেক পুরনো তাহলে কেমন হয়? ঠিক তেমনি একটি পুরনো দিঘী নিয়ে আপনাদের সামনে হাজির হয়েছে আর সেটা হচ্ছে বরিশালের গজনি দীঘি।

    বরিশালের সদর উপজেলার অবস্থিত চাঁদপুর ইউনিয়নের মধ্যে অবস্থিত একটি নদীর রয়েছে যেটা কিনা প্রায় ৪৫৭ বছর আগেই খনন করা হয়েছে। ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্ব মুঘল সম্রাট আকবর অভিভাবক যিনি ছিলেন “বৈরাম কা” নামে তিনি মূলত ১৫৫০ খ্রিস্টাব্দে চাঁদপুর ইউনিয়নের মধ্যে ১১.৭০ একর জমির উপর এই দীঘিটি খনন করেছিলেন।

    আপনি যদি এই দীঘিতে কোন সময় যান দীঘিটি তিনদিকে গাছ পালা দেখতে পাবেন এবং পূর্ব উত্তর দিকে দেখতে পাবেন মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্বরূপ। এক কথায় বলতে গেলে খুব অসাধারণ একটি দিঘী চাইলে আপনি ঘুরে আসতে পারেন এই দিঘীটি দেখার জন্য বরিশালের সদর উপজেলার চাঁদপুর ইউনিয়নের মধ্যে।

    মাধবপাসা জমিদার বাড়ি বরিশালের বিখ্যাত বাড়ি

    বরিশালে মাধবপাসার মধ্যে অবস্থিত একটি জমিদার বাড়ি রয়েছে যার নাম হচ্ছে চন্দ্রদীপ রাজবাড়ী। রাজা কিংবা রাজবাড় কেউ পুরনো নয় শত বছর পুরনো এ রাজবাড়ী প্রথা বিলুপ্তের পরও প্রায় ৬৬ বছর এখনো অক্ষত অবস্থায় রয়ে গেছেন।

    রাজা ২০১৬ সালের দিকে বার্ধক্য জনিত কারণে ১১০ বছর বয়সে পরলোক গমন করেন। এই রাজ বাড়িটি নির্মিত হয় প্রায় ১৮০০ শতাব্দীর দিকে, বলা চলে এই বাড়িটি একদম সাধারন একটি বাড়ি কেননা মাত্র ৬টি কামরার একতলা বাড়ি এটি। তবে আপনারা পুরনো এই বাড়িটি দেখে আসতে পারেন আশা করি ভালো লাগবে।