জাতীয় শোক দিবসের সংক্ষিপ্ত বক্তব্য‌ | jatio shok dibosh short boktobbo

প্রিয় পাঠক বন্ধুরা! কমবেশি আমরা সকলেই জানি ১৫ই আগস্ট বাঙালি জাতির জন্য একটি সুখের দিন। কেননা বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার চার বছর পরে অর্থাৎ ১৯৭৫ সালে ১৫ আগস্ট ঘটেছিল এক নির্মম ঘটনা এবং অবিস্মরণীয় নিয়ে একটি ঘটনা।

সেই বিষয়টি কেন্দ্র করে বাংলাদেশে প্রতিবছর ১৫ ই আগস্ট একটি দিবস পালিত হয় যেটাকে জাতীয় শোক দিবস বলা হয়ে থাকে। বাংলাদেশের আনাচে-কানাচে এই দিবসকে কেন্দ্র করে অনেক কনসার্ট কিংবা অনুষ্ঠান হয়ে থাকে। যেখানে অনেক বড় বড় রাষ্ট্রীয় নেতাকে দাওয়াত করা হয়।

জাতীয় শোক দিবসের সংক্ষিপ্ত বক্তব্য‌ | jatio shok dibosh short boktobbo
জাতীয় শোক দিবসের সংক্ষিপ্ত বক্তব্য

তাছাড়া বিভিন্ন মেহমান বৃন্দকে দাওয়াত করা হয় যেখানে অনেকজনকে অনেক রকম বক্তব্য দিতে হয়। যার জন্য অবশ্যই আমাদেরকে আগে থেকেই প্রস্তুত থাকতে হয় যেন আমরা আমাদের বক্তব্যটা সুন্দরভাবে উপস্থাপন করতে পারি।

ঠিক তারই ভিত্তিতে, আমরা অনেকেই গুগলে গিয়ে সার্চ করে থাকি ‘জাতীয় শোক দিবসের সংক্ষিপ্ত বক্তব্য’ । অর্থাৎ আমরা একটা এমন সুন্দর বক্তব্য খুঁজে থাকি এবং সংক্ষিপ্ত বক্তব্য খুজে থাকি যেটা আমরা লোকজনের কাছে উপস্থাপন করতে পারি কনসার্টের মধ্যে।

তাছাড়া কম বেশি আমরা সকলেই জানি এ সমস্ত কাজগুলো করার আগে অবশ্যই আগে থেকেই প্রস্তুত থাকতে হয়। না হয় পড়ে গিয়ে আবার অনেক ঝামেলায় পড়তে হবে এবং অনেক অসম্মানী হতে হবে।

বিশেষ করে আপনি যদি একজন সম্মানী ব্যক্তি হয়ে থাকেন তাহলে সে ক্ষেত্রে আপনাকে বক্তব্যের প্রতি একটু জোর দেওয়া দরকার। বক্তব্যটা সংক্ষিপ্ত আকারে শিখে পেলা দরকার যেন আপনি ভালোভাবে উপস্থাপন করতে পারেন। যেন আপনাকে বক্তব্য দেওয়ার সময় মঞ্চে উঠে গাবরাতে না হয়।

তার ওই ভিত্তিতে আজকের এই আমার ওয়েবসাইটের মধ্যে আপনাদের জন্য একটা জাতীয় শোক দিবসের সংক্ষিপ্ত বক্তব্য তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। তাই আর দেরি না করে আপনি যদি এই বিশেষ সম্পর্কে জানতে চান তাহলে অবশ্যই আর্টিকেলটি শেষ পর্যন্ত মনোযোগ দিয়ে পড়বেন।

এবং আপনি বক্তব্যটা পড়তে পড়তে মুখস্ত করে ফেলবেন যেন আপনাকে ভয় পেতে না হয় মঞ্চে উঠার পরে। তাহলে আর দেরি কেন আর কথা না বাড়িয়ে মূল আলোচনাই শুরু করা যাক।

আরো পড়ুনঃ

জাতীয় শোক দিবস কি?

জাতীয় শোক দিবস হচ্ছে এমন একটি দিবস যেটা কিনা বাংলাদেশের মধ্যে পালিত করা হয় প্রতিবছর ‘শোক দিবস’ নামে। প্রতিবছর যখন ১৫ আগস্ট আসে তখন জাতীয়ভাবে এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে শোকের সাথে পালন করা হয় এই দিবসটি। এই দিবসের মধ্যে কালো পতাকা উত্তোলন করার সাথে সাথে বাংলাদেশের পতাকা অর্ধনিমিত করা হয়ে থাকে। ১৯৭৫ সালে ১৫ই আগস্ট বাংলাদেশ এবং স্বাধীনতার স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং তার পরিবারকে নির্মমভাবে হত্যা করাই এই দিবস পালন করা হয়। মূলত ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট এই দিনকে স্মরণীয় রাখতে এই দিবসটিকে পালন করা হয়ে থাকে।

See also  মালয়েশিয়া কলিং ভিসা কবে চালু হবে 2024

জাতীয় শোক দিবসের সংক্ষিপ্ত বক্তব্য কি?

জাতীয় শোক দিবসের সংক্ষিপ্ত বক্তব্য হচ্ছে এমন কিছু আলোচ্য বিষয় যেগুলো জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে যে কনসার্ট কিংবা অনুষ্ঠানে বলা হচ্ছে তার পরিপ্রেক্ষিতে উপস্থাপন করা হয়ে থাকে। যেমন: ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট এর ইতিহাস তুলে ধরা, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর ইতিহাস তুলে ধরা ইত্যাদি।

জাতীয় শোক দিবসের সংক্ষিপ্ত বক্তব্য

এখন আমি আপনাদেরকে শেয়ার করব, কিভাবে আপনি জাতীয় শোক দিবসের যে সমস্ত অনুষ্ঠান কিংবা কনসার্ট হয়ে থাকে, সেখানে যদি বক্তব্য দেয়ার প্রয়োজন পড়ে, তাহলে জাতীয় শোক দিবসের সংক্ষিপ্ত বক্তব্য কিভাবে উপস্থাপন করবেন সেটার একটা ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করব।

তবে এখানে আমি আপনাদেরকে যে ধারণাটি দিব সেটা হুবহু উপস্থাপন করার চেষ্টা করবেন না। শুধুমাত্র আজকের দেওয়া আর্টিকেল থেকে আপনি জারানো থাই নিবেন এবং আপনি সেই অনুযায়ী একটা আপনার মতে বক্তব্য তৈরি করবেন।

সেটা অবশ্যই কোন একটা কাগজে লিখে ফ্রেন্ড করে নিবেন কম্পিউটারে কম্পোজ করে। তবে দেখতে একটু সুন্দর হবে এবং আপনার পড়তে একটু ভালো লাগবে। তবে আপনি বক্তব্যটা একদম মুখস্ত করে ফেলার চেষ্টা করবেন যেন আপনাকে পরে আবার সমস্যায় পড়তে না হয়।

তবে আপনি যদি বক্তব্য দেওয়ার সময় মুখস্থ দিতে পারেন তাহলে তো ভালই, আর যদি মনে করেন আপনি মুখস্ত দিতে পারবেন না এবং মুখস্ত করার পরেও আপনি দেখে দেখে বক্তব্য দেওয়ার চেষ্টা করবে। সে ক্ষেত্রে আপনার সাহসটা আরো বেড়ে যাবে এবং আটকে যাওয়ার তো কোনো কথায় আসেনা। তাহলে চলুন বক্তব্যটা শুরু করা যাক:-

বক্তব্য

আসসালামু আলাইকুম,

আমি সর্বপ্রথম ওই সমস্ত উদ্যোক্তাদের কৃতজ্ঞতা অর্পণ করতে চাই, যারা কিনা আমাকে এই ছোট্ট আদমকে সম্মানীয় লোকদের সামনে আমাকে কিছু কথা বলার শুভ যোগ করে দিয়েছেন।

এবং সাধুবাদ জানাই ওই সমস্ত ও দুঃখ কারীদের যারা কিনা এই অধমকে প্রধান অতিথি যোগ্যতা না থাকার সত্ত্বেও যারা প্রধান অতিথি করেছেন।

See also  মালয়েশিয়া ভিসা কবে খুলবে 2024।মালয়েশিয়া কি কি কাজ রয়েছে।

আজকের এ অনুষ্ঠানটিতে আমরা সমবেত হয়েছি অত্যন্ত দুঃখ এবং ক্লিষ্ট হৃদয়ে সেই জাতীয় শোক দিবস পালন করার উদ্দেশ্যে।

আমাদের মাতৃভূমি বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার চার বছর পর ১৯৭৫ সালের ১৫ ই আগস্ট একদল খাপছাড়া সেনা সদস্য আমাদের প্রিয় নেতা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে এবং তার পরিবারকে অকরুণভাবে হত্যা করে। যার কারণে তারা সেদিন পৃথিবীর ইতিহাসের অন্যতম জঘন্য একটি কাজ করেছিল।

আজ সেই দিনকে স্মরণ রাখার ভিত্তিতে আজ ১৫ ই আগস্ট ২০২২ এ আমরা সবাই সমবেত হয়েছি। আমরা পালন করছি আজকের দুঃখ ভরা মন নিয়ে ১৫ ই আগস্ট এর শোকাবাহত দিনটি।

এই দিবসটিতে বাঙালি জাতি তাদের প্রাণ প্রিয় নেতা বঙ্গবন্ধুর স্মরণে এবং তার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে ভাবাভীত হয়। প্রত্যেকেই তাদের দুঃখ ভরা মন নিয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর জন্য অশ্রু নিবেদন করে।

বঙ্গবন্ধু সহ তার পরিবারকে এই নিষ্ঠুর হত্যাকাণ্ডের জন্য প্রত্যেক বাঙালি জাতির জন্য এটি একটি কলঙ্কময় অধ্যায়।

আপনারা সকলেই জানেন, শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর বলিষ্ঠ কণ্ঠে, সবাই জীবন বাজি রেখে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সাথে জীবন মরণ লড়াইয়ের মাধ্যমে, পৃথিবীর মানচিত্রে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের মানচিত্র উত্তোলন করেছিলেন।

সেই সিংহ পুরুষ বাংলার মানুষকে সাথে নিয়ে আজকের এই বাংলাকে গড়ে তুলেছিলেন অনন্য রূপে। বঙ্গবন্ধুর সেই ঐতিহাসিক সাত ই মার্চের ভাষণ যেখানে স্বাধীনতা সংগ্রামের আহবান করা হয়েছিল এবং লাখ মানুষ লাখো বাঙালি উপস্থিত হয়েছিল‌ স্বাধীনতা সংগ্রামের উদ্দেশ্য।

তখন সময়ে আজকের বাঙালি বীর বাঙালি হিসেবে পরিচিত লাভ করেছিল পৃথিবীর ইতিহাসের অনন্য অধ্যায়ে। দীর্ঘ ৯ মাস সেই যুদ্ধের মধ্যে ৩০ লক্ষ বাঙ্গালীকে আত্মহুতি দিতে হয়েছিল।

অথচ ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস বিজয় আসার কয়েকদিন যাতে নেয়ে যেতেই এক বিপথগামী সেনা দল উচ্চ আকাঙ্ক্ষার জন্য বঙ্গবন্ধু এবং তার পরিবারকে নির্মমভাবে হত্যা করে। শোক সাগরে বেশি ছিল পুরো বাঙালি।

স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল পুরো পৃথিবী, যে বীর বাঙালি বাংলাদেশকে পৃথিবীর মানচিত্রে তুলে ধরেছিল তাকে তার দেশে এইভাবে মরে যেতে হবে কেউ বিশ্বাসই করতে পারল না।

যে দেশকে সোনার বাংলা হিসেবে গড়ে তোলার জন্য এত কিছু করেছিল সবগুলো মাটিতে মিশে যাবে কেউ কল্পনাই করতে পারল না। ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস, যার কারণে আমাদেরকে ১৫ ই আগস্ট এইভাবে শোকাহত হয়ে সমবেত হতে হচ্ছে।

প্রিয় সুধীবৃন্দ,

আজকের জাতীয় শোক দিবস মানে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর জন্য বেদনার অশ্রু বিসর্জন করা নয়, বরং বঙ্গবন্ধুর যে স্বপ্ন ছিল বাংলাকে সোনার বাংলা হিসেবে গড়ে তোলার সেটাকে আমরা কিভাবে তার স্বপ্নকে পূরণ করতে পারি এটা চিন্তাভাবনা করাই হচ্ছে আজকের এই দিনের মূল উদ্দেশ্য।

See also  এসএসসি 2024 শর্ট সিলেবাস মানবিক | ssc 2024 short syllabus manobik

একটা খুশির ব্যাপার হচ্ছে, দীর্ঘদিন পরে হলেও বঙ্গবন্ধুর হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত অনেক হত্যাকারীর, অনেক অপরাধী শাস্তি হয়েছে রাষ্ট্রীয়ভাবে।

এবার জাতিস্মরকে কিভাবে শক্তিতে রূপান্তরিত করে সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে নেওয়া যায় তার সাধারণ বিনিয়োগ করতে হবে।

প্রতিটি বাঙালি জন্য স্বাধীনতা লাভের যেমন পরম সৌভাগ্যের ছিল ঠিক তেমনি স্বাধীনতার মর্যাদা বৃদ্ধির জন্য আত্মত্যাগের সাধনা ও পরম আকাঙ্ক্ষিত।

শিক্ষার অভাব আর দরিদ্রতা এবং মানুষের জীবন যেভাবে বিপর্যস্ত হয়েছিল। সম্প্রীতিককালে বাংলাদেশের মধ্যে ঠিক যেভাবে খাদ্য এবং শিক্ষা ব্যবস্থায় কিভাবে উন্নতি হয়েছে সেটা আমরা স্বচক্ষে দেখতে পাচ্ছি।

পৃথিবীর মানচিত্রের বুকে আমরা নিজেদেরকে আমাদের মাতৃভূমির পরিচয় দিতে পারি গর্বের মাধ্যমে। স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আমরা পৃথিবীর বুকে এক অনন্য ইতিহাস আজীবন আছি এবং থাকবো।

যে মহৎ ব্যক্তি আমাদেরকে নেতৃত্ব দেওয়ার মাধ্যমে এতদূর এগিয়ে নিয়েছিলেন তিনি যে আজ নেই সেটা বলা আমাদের উচিত নয়! বরং আমাদেরকে সর্বদা এটাই মনে করতে হবে যে উনি আমাদের মাঝে এখনো আছেন এবং সর্বদা থাকবেন। যার অবদান বাঙালি জাতি ভুলার মত নয়।

প্রিয় সুধী বৃন্দ, জাতীয় শোক দিবস এই দিন সুখ প্রকাশের ই দিন বলে মনে না করে আমাদেরকে মনে করতে হবে বাঙ্গালীর জাতির অঙ্গীকারের দিন।

যে অঙ্গীকার হবে আমাদের এই দেশকে কিভাবে সুন্দর এবং সোনার বাংলা গড়ে তোলার। আসুন আমরা সবাই নিজেদেরকে সেই মহৎ উদ্দেশ্যে নিবেদিত করি। বাংলাদেশ চিরজীবী হোক, আল্লাহ হাফেজ।

আরো পড়ুনঃ

উপসংহারঃ জাতীয় শোক দিবসের সংক্ষিপ্ত বক্তব্য | শোক দিবস বক্তব্য

প্রিয় পাঠক বন্ধুরা, আপনারা যারা আর্টিকেলটি শেষ অব্দি পড়েছেন আশা করি আপনি কিভাবে একটি সুখ দিবসের বক্তব্য উপস্থাপন করতে হয় জেনে গেছেন। তবে আমি এখানে আপনাদের সাথে যে বক্তব্যটা শেয়ার করেছি এটা সরাসরি আপনার না বলে নিজের মতো করে একটি বক্তব্য সাজাবেন।

অবশ্যই কোন একটা বক্তব্য লেখার আগে সেটা নিয়ে গবেষণা করবেন এবং রিসার্চ করবেন। বক্তব্যের মধ্যে নতুন কিছু তুলে ধরার চেষ্টা করবেন এবং সমর্থক শব্দ ব্যবহার করার চেষ্টা করবেন।

বক্তব্যটা লেখার সময় যেটা মাথায় আসে সবগুলো আগে কোন একটা খাতায় নোট করে ফেলবেন। পরবর্তীতে কোন জায়গায় কোন কথা বললে ঠিক হবে এটা অনুযায়ী ভালোভাবে লিখে ফেলবেন।

তারপর কোন একটা কম্পিউটারের দোকানে গিয়ে যদি আপনার কাছে কম্পিউটারটাকে তাহলে আপনি নিজেই লিখে ফেলবেন। তারপর কোন একটা প্রিন্ট থেকে প্রিন্ট করে নেওয়ার চেষ্টা করবেন, যেন আপনার পড়তে সুবিধা হয়।